• রাজনীতি

    নুন আনতে পান্তা ফুড়ানো পরিবার থেকে উঠে আসা নাম মাত্র যুব নেতা

      প্রতিনিধি ২৯ মে ২০২৩ , ১০:৩৪:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

    মোঃ লুৎফর রহমান লিটন-সলংগা সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

    নুন আনতে পান্তা ফুড়ানো পরিবার থেকে উঠে আসা নাম মাএ যুব নেতা সিরাজ সরকার। তাড়াশ উপজেলার পৌর এলাকার শোলাপাড়া গ্রামের মোঃ জিল্লুর রহমানের ছেলে।
    সংসারে অভাব অনটন লাঘবে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ডিম কিনে মহাজনকে দিতো তার বাবা। তার ছেলে সিরাজ সরকার ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। মাত্র ১২ বছরেই দুর্ণীতির দায়ে চাকুরী চলে যায় সিরাজ সরকারের।

    চাকুরী কালীন সময়ে ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করতে রায়গঞ্জ-তাড়াশ আসনের সাবেক-বর্তমানসহ সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে সময় দিয়ে অভিনব কৌশলে ভাগিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

    তাড়াশ উপজেলার বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদের সাধারন সম্পাদক পদ দিয়েই রাজনীতির মাঠে আসেন সিরাজ সরকার। ২০১৯ সালে ১০ মার্চ তাড়াশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতার বলয় থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে সিরাজ সরকার হোন তৃতীয়। দলীয় লোকজন তাকে প্রত্যাখান করলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহন করে বিপুল ভোটে পরাজিত হোন। এই নির্বাচনে তিনি ২০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের সতত্য নিশ্চিত করেছেন পিতা জিল্লুর রহমান।

    জনপ্রতিনিধি হতে মরিয়া হয়ে উঠা সিরাজ সরকার গত ১৭ অক্টোবর ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের তাড়াশ উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী হয়ে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। এসময় তিনি ভোটার প্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ১শত জনকে প্রদান করেন। এ নির্বাচনে তিনি অর্ধ কোটি টাকা ব্যয় করলেও আবারো পরাজিত হোন।

    সিরাজ সরকার বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশে ছবি উঠেছেন। আর এই ছবি ব্যবহার করেই তাদের সাথে সু সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন কাজের তদবির করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এমনকি তাড়াশ উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের পদ পদবীতে নিজেকে স্থান করে নিতে কখনও যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আবার কখনও স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য চালিয়েছেন তদবির। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় কোথাও স্থান মিলেনি তার।

    সম্প্রতি তাড়াশ উপজেলায় পৌরসভার মেয়র পদেও আওয়ামীলীগের নৌকার মনোনয়ন হিসেবে বিভিন্ন স্থানে দোয়াও ভোট কামনা করছেন সিরাজ সরকার। নাম প্রকাশে একাধিক আওয়ামীলীগ ও সহযোগী নেতা কর্মীরা জানান, রায়গঞ্জে সরকারী ও বিরোধী দলের সমালিচিত নেতা কর্মীদের টিআর কাবিতা প্রকল্প দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি দলীয় নেতা কর্মীদের নজরে আসলে রায়গঞ্জের সকল কর্মকান্ড থেকে তাকে দুরে সড়ানো হয়। একারনে কয়েক মাস যাবৎ রায়গঞ্জে প্রবেশ করতে পারছেন না সিরাজ সরকার।

    ক্ষমতার বলয় থেকে শোলাপাড়া রঘুনীলি ও তার আশে পাশের গ্রামগুলোতেও সরকারী প্রকল্প নিয়ে কোন কাজ না করে লক্ষ লক্ষ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ২০১৯ ও ২০২০ সালে সরকারী ঘরের প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন চেয়ারম্যানের নিকট থেকে ৫-৭ লাখ টাকা নগদে কেউ আবার চেকের মাধ্যমে দিয়েছিল সিরাজ সরকারকে। পরবর্তীতে ওই প্রকল্প আর পাওয়া যায়নি, এমনকি টাকাও ফেরৎ দেয়নি।

    গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রায়গঞ্জ-তাড়াশে সিরাজ সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীগনের অভিযোগ রয়েছে, নৌকা প্রতীক পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থী প্রতি ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার বানিজ্যি করেছেন সিরাজ সরকার। পরবর্তীতে নৌকা প্রতীক না পাওয়ার প্রার্থীগন চাপ সৃষ্টি করে কেউ কেউ টাকা উত্তোলন করলেও অনেকেই কোন টাকা ফেরৎ পায়নি। তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লক্ষ লক্ষ টাকার টেন্ডারের ঔষদ সরবরাহকারীর দায়িত্ব নিয়ে সরকার কর্তৃত নিষিদ্ধ কোম্পানীর ঔষদ সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে সিরাজ সরকারের বিরুদ্ধে।

    ক্ষমতার বলয় থেকে মহিষলুটি মৎস্য আড়তে নিয়েছেন আড়ৎদারী। গত দু বছর যাবৎ তাড়াশের উলিপুর গ্রামের ৫২ বিঘার দিঘীটি যত সামন্য টাকা দিয়ে লীজ নিয়ে করছে মাছের চাষ, লাখ লাখ টাকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের অসহায় সুফলভোগী। বর্তমানে সিরাজ সরকার তার অপরাধ ঢাকতে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাকে কোন অবস্থাতেই দলীয় পদ পদবী দেওয়া যাবে না। এদিকে অভিযোগের বিষয়গুলি অস্বীকার করে সিরাজ সরকার বলেন, আমি কোন টাকা পয়সার কারবারী করি নাই, আমাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এতে আমার কিছু হবে না।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ