• আইন ও আদালত

    বাউফল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত রড উদ্ধার

      প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০২৪ , ১০:২৭:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

    মোঃ মহসিন মীর-বাউফল, প্রতিনিধিঃ

    ট্রাক ড্রাইভার আল আমিন (৩৩) হত্যাকান্ডের ঘটনায় ছিনতাইকৃত ৯ মেট্রিকটন রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাউফলের দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একতা এটারপ্রাইজের গোডাউন থেকে রডগুলা উদ্ধার করে বাউফল থানা পুলিশ। একতা এটারপ্রাইজর স্বত্ত্বাধিকারি মাসুদ রানা রডগুলা আত্মগোপনে থাকা ট্রাকের হেলপার হাসানের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন বলে জানা যায়। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যস্ততা করেন দশমিনার মজিবর নামের এক ঠিকাদার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজ এর কারাখানা থেকে ঢাকা মেট্রা-ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরের ট্রাকটি ১৩ মেট্রিকটন রড নিয়ে বাউফলের কালিশুরী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুরীর খান এটারপ্রাইজ রডগুলা আনলোড করার কথা।

    কিন্তু ১৮ এপ্রিল ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা মোঃ সবুজ। ২০ এপ্রিল দশমিনার নদীত হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। পরে মামা সবুজ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই লাশ তার ভাগিনা আল আমিনের। ময়নাতদন্ত শেষে আল আমিনের লাশ পরের দিন চাঁদপুর নিয়ে দাফন করা হয়।

    এ ব্যাপার দশমিনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আল-আমিনের মামা সবুজ। এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন নামে পুলিশের একাধিক টিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা থানা পুলিশের এসআই আল মামুন বলেন, ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে খুন করে ঘাতকরা রডগুলা কালাইয়া বাজারের একতা এটারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। মাসুদ রানা ওই রডগুলা গুদাম রেখে দেন। তদন্তের একপর্যায় নিশ্চিত হয়ই রডগুলা মঙ্গলবার রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। আর আল আমিন হত্যাকান্ডের মুল নায়ক আত্মগোপনে থাকা ট্রাকের হেলপার হাসানকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

    এদিকে রড পরিবহনের কাজ নিয়োজিত ট্রাকটি পুলিশ বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করছে। আল আমিনের মামা সবুজ বলেন, ছোট বেলায় আল আমিনের বাবা মা মারা যান। এরপর থেকে তার কাছেই বড় হন আল আমিন। মামা সবুজর বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার লামছড়ি গ্রামে। বর্তমান তিনি থাকেন নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা বউবাজার এলাকায়। সবুজ তার ভাগিনাকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয় একটি ট্রাক কিনে দেন। মামার ট্রাক চালিয় আল আমিন আয়রোজগার করতেন। ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার রনজিৎ মজুমদারের সঙ্গে চুক্তি করে রডগুলা বাউফলের কালিশুরী বন্দর পৌঁছে দেয়ার জন্য আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজ এর ফ্যাক্টরী থেকে রওয়ানা দেয় আলআমিন। সঙ্গে ছিলেন ট্রাকের হেলপার হাসান । হাসানের বাড়ি পটুয়াখালী হওয়ায় এই রুট তার চেনা ছিল। আল আমিন প্রথম এই রুট ট্রাক নিয় আসেন।

    সবুজ বলেন, আমার এতিম ভাগিনাকে নির্মমভাব খুন করা হলো। আমি খুনিদের উপযুক্ত বিচার চাই। এদিক কালাইয়া গুদাম থেকে ছিনতাই হওয়া রড জব্দ করা হলেও রহস্যজনক কারনে একতা এটারপ্রাইজর মালিক মাসুদ রানাক আটক করেনি পুলিশ। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি মজিবর নামের এক ঠিকাদারর কাছ থেকে রডগুলা ক্রয় করছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলা ছিনতাইকৃত কিনা তা আমার জানা ছিল না। আল আমিন হত্যাকান্ডের বিষয় আমি কিছুই জানি না। আমি নির্দোষ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আল আমিনকে পরিকল্পিতভাবে খুনের পর রড ছিনতাই করা হয়েছ। আর ছিনতাইকৃত রড পাওয়া গেছে একতা এটারপ্রাইজে। সুতরাং একতা এটারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা কোন ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, বিষয়টি দশমিনা থানার। রড উদ্ধারের সময় আমরা সহযোগীতা করছি মাত্র। এর বাইরে আর কিছুই বলতে পারছি না। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমানিত হবে তাদের প্রত্যককেই আইনের আওতায় আনা হবে।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ