• Uncategorized

    কুষ্টিয়া প্রশাসনের হিটলিস্ট সন্ত্রাসী লিপটন ও মামুন টিকে আছে রাঘববোয়ালদের ছত্রছায়ায়

      প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২১ , ১২:৪৬:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

    কুষ্টিয়া প্রশাসনের হিটলিস্ট সন্ত্রাসী লিপটন ও মামুন টিকে আছে রাঘববোয়ালদের ছত্রছায়ায়

    কুষ্টিয়া প্রশাসনের হিটলিস্ট সন্ত্রাসী লিপটন ও মামুন টিকে আছে রাঘববোয়ালদের ছত্রছায়ায় বীরদর্পে টেন্ডার চাঁদাবাজি মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। আশির দশকের আলোচিত সেভেন মার্ডার এর মূল হত্যাকারী জাসদ গণবাহিনীর নেতা বাবুর ভাস্তে লিপটন। বর্তমানে বসবাস করেন কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরে। তার চাচার অনুপ্রেরণায় সে চরমপন্থী পথে পদার্পণ করে।

    সূত্র জানায়, ২০০২ সালে লিপটন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক কাজল মাজমাদারের বাসা থেকে ১৪ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা জামাইবাবুকে পরিকল্পিত ভাবে গুলি করে হত্যা করে। গুলি করে পালানোর সময় কুষ্টিয়া শহরের সোনালী ব্যাংকের সামনে অস্ত্রসহ মোটর সাইকেল থেকে পড়ে যায় লিপটন।

    এসময় সোনালী ব্যাংকের গার্ডরা তাকে ধরতে আসলে তার হাতে থাকা এ কে ফোরটি সেভেন দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পালিয়ে যায়। এরপর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে ৪ দলীয় ঐক্যজোটের এজেন্ট হয়ে জনপ্রিয় যুবলীগ নেতা জামুকে ২০০৩ সালে গুলি করে হত্যা করে। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই ২০০৩ সালেই টাকা না দেওয়ায় ফয়েজ নামক এক ব্যবসায়িক নেতা কে কুষ্টিয়া শহরের কালিংশংকরপুরের স্বপনের বাড়িতে হত্যা করে।

    এরপর ২০০৬ সালে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী জাতীয় পার্টির নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করে লিপটন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় লিপটন ভারতে আত্মগোপনে চলে যায়। চরমপন্থী নেতা লিপটনের ছোট ভাই বিসিএস এ সুযোগ পায়। ডিএসবি তদন্তে তার ভাইয়ের প্রতিবেদনটি আটকে যায়।

    ভাইয়ের প্রতিবেদনটি পক্ষে নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করানো হয় তার মাকে। বিনিময়ে নিজ দলীয় লোকজনদের ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তারপর আস্থা অর্জন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের। পরে নিজ দলীয় অন্তদন্দ্বে লিপটন নিজে বাহিনী গঠন করে সঙ্গে নেই ভাদালিয়া দরবেশপুর এলাকার টাইগার মামুনকে।

    ‘টাইগার মামুন কুষ্টিয়া’ ‘ফিঙে লিটন যশোর’ ডিম রিপন যশোর’ নামক সংগঠন লিপটনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। যশোর বেনাপোল থেকে ডিম রিপনের মাধ্যমে অস্ত্র চালান নিয়ে এসে বেঁচাকেনা করে বলেও সূত্র জানায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লে লিপটন তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।

    লিপটন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থার সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করে ৪ দলীয় জোটের এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী যুবলীগ নেতাদের টার্গেট করে। এদের বিরুদ্ধে নামে বেনামে লিপটন ও তার আরেক সহযোগী মামুন দরখাস্ত করে এদের ফাইল তৈরী করে। ফাইল তৈরী করে অস্ত্র উদ্ধারের সাজানো নাটক করা হয়। লিপটন নিজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশের হিট লিস্টের তালিকাভূক্ত মোষ্ট ওয়ান্টেট সন্ত্রাসী। চাঁদাবাজিই তার মূল পেশা।

    এমন একজন সন্ত্রাসী এলাকাতে প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় কুষ্টিয়াবাসী আতংকিত। লিপটনের বিরুদ্ধে একাধিক জিডি থাকলেও প্রশাসনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে গত কয়েক বছর আগে টাইগার মামুন অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভাদালিয়া থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আটক করে। মামুন এর নামে এক ডজনেরও বেশি হত্যা, ছিনতাই-চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

    এদিকে লিপটন ও মামুনের গ্রেপ্তার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ও সদর উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা। একজন কর্মহীন মানুষের আয়ের উৎস না থাকলেও কিভাবে ৫০ লাখ টাকার গাড়িতে ঘুরে বেড়ায় তা জনমনে প্রশ্ন জাগে । এই দুজনের সাথে কারা জড়িত? সমাজের অন্ধকার জগতের রাঘব বোয়াল বিদেশি চক্র।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ